Published : 18 Jul 2026, 03:13 PM
রাজধানীর মতিঝিল এলাকা থেকে এক ভয়ংকর চক্রের পর্দাফাঁস হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি (৪৬) সহ আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে চাঁদা দাবি করা এবং ভয় দেখিয়ে দিনদুপুরে গুলি চালানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ ওসমান গণি জানিয়েছেন, মতিঝিল এলাকায় চাঁদাবাজি এবং গুলিবর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত শুটার তানিম রেজা ওরফে বাপ্পিকে গতকাল শুক্রবার সকালে হোটেল পূর্বাণী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ধরা হয়। এরপর পুলিশ আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করে। এদের মধ্যে মোহাম্মদ জুয়েল (৪৮), শাকিল (২৭), মানিক কাজী (৫০) এবং রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে রিজন (৩৫) রয়েছেন। তাদের কাছ থেকে বিদেশি তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং সাতটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্র অনুযায়ী, তানিম দীর্ঘদিন ধরে মতিঝিল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় পশুর হাটের ইজারা, চাঁদাবাজি এবং শীর্ষ সন্ত্রাসীদের হয়ে কাজ করত।
ব্যবসায়ীদের কাছে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে অর্থ দাবি করত এবং তা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দিত। একটি ব্যবসায়ীর ওপর গুলি চালানোর ঘটনা তদন্তের সময় তানিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিএমপি কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওসমান গণি আরও জানান, গত ১৯ মে দক্ষিণ কমলাপুরের কোরবানির পশুর হাটের এক ইজারাদারের অফিসে সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। এর আগে ১৫ মে একই ব্যবসায়ীর কাছে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং তা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এই ঘটনায় মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্তে তানিম ও তার সহযোগীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার কারণে তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। শুক্রবার রাতে দক্ষিণ কমলাপুরে তানিমের অফিসে অভিযান চালিয়ে পুলিশ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে। সেখান থেকে একটি বিদেশি রিভলভার, দুটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচটি রিভলভারের গুলি, দুটি পিস্তলের গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, একটি ইলেকট্রিক গান এবং একটি চায়নিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনায় মতিঝিল থানায় অস্ত্র আইনে মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তানিমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দস্যুতা, অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, নারী-শিশু নির্যাতন এবং মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট সাতটি মামলা রয়েছে। শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের সঙ্গে তানিমের কোনো সম্পর্ক আছে কিনা, সেই বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে মোহাম্মদ ওসমান গণি নিশ্চিত করেছেন যে, তাদের সহযোগীদের সম্পর্ক এবং কার অধীনে কাজ করেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযুক্তদের আদালতে পাঠানো হবে এবং রিমান্ডে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।।
মিরপুরে দেয়ালধসের মর্মান্তিক পরিণতি: টিসিবির পণ কেনার সময় আরও একজনের মৃত্যু